Thursday, April 2nd, 2026, 2:15 pm

জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি নেই, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

 

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সরবরাহ চুক্তি ‘ফোর্স মেজর’-এর আওতায় পড়লেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

যুগ্মসচিব আরও জানান, দেশে জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের কাজ নিয়মিতভাবে চলমান থাকায় সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি।

মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কেউ অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, উদ্ধার করা জ্বালানি তেল স্থানীয় খোলা বাজারে বিদ্যমান দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুবিধা পেতে পারে।

কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোনো কৃষক যাতে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

ফিলিং স্টেশনে ভিআইপিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা বা বিশেষ সুবিধা নেই। সবার জন্য সমানভাবে জ্বালানি সরবরাহের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়েও সাশ্রয়ী আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হওয়ায় সম্মিলিতভাবে সাশ্রয়ী হওয়াই উত্তরণের প্রধান উপায়।

বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল রাখতে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানসহ নতুন বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরসহ আঞ্চলিক বাজার থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ