Friday, April 3rd, 2026, 6:39 pm

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ মৃত্যু: ২২ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট

 

রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খান, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ মিললেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনের মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং এর ফলে প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়।

এনএনবাংলা/