দেশে কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করতে আগ্রহ না দেখানোকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন পাসের বিষয়টি নিয়ে ‘ছেলে খেলা’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত না থাকলে এবং গুম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বিধান না থাকলে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে—তা ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই ভুক্তভোগী হিসেবে দেখেছে। তবুও তারা এখনো এসব আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারছে না, যা বিস্ময়কর। যেসব অজুহাতে আলোচিত অধ্যাদেশগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা আরও শঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার সকালে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত, বাতিল ও সংশোধন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান ও উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়েরও উপস্থিত ছিলেন। এসময় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে টিআইবি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো এখনই পাস করার পরিবর্তে পরে করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব করা, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা সৃষ্টি এবং বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরের মতো বিষয় সামনে এনে এসব অধ্যাদেশকে অনিশ্চয়তায় রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে, যা সাধুবাদযোগ্য। এর মধ্যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন ২০২৫ এবং জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ)’ অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশই দুর্বলতামুক্ত নয়; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অধ্যাদেশ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় ভুগছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকার পায়। যদিও এই ক্ষমতা বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে নির্বাচিত সরকার তা নিজের ইচ্ছামতো প্রয়োগ করে এটিকে স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট ১২ মে
তনু হত্যা মামলার নতুন মোড়, তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ