যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশের অংশগ্রহণে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগ সফল হলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ খুলে যেতে পারে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মোট চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, যা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপে একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এই সময়ের মধ্যেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলবে।
দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আলোচনায় বেশি সময় লাগলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তবে ভার্জিনিয়াভিত্তিক অ্যাক্সিওসের এ প্রতিবেদনের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরান এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর শক্তিশালী হামলা চালানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলার পাশাপাশি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যেও বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
মধ্যস্থতাকারীদের ধারণা, কেবল একটি চূড়ান্ত সমঝোতার মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুর সমাধান সম্ভব হতে পারে।
আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আপাতত দুই পক্ষের কাছ থেকেই ছোট ছোট কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় ইরানকে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পুরোপুরি ছাড় দিতে হবে না বলেও দুটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের সম্ভাব্য দাবিগুলোর মধ্যে কোনগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে, তা নিয়েও কাজ করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
তবে ইরানি আলোচকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি চান না—যেখানে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে।
একাধিক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়ার আগেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
হামের টিকা ‘সংকটে’ সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় গত সরকারের
সংকট সমাধানে বিকল্প উৎস হতে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ
খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী