যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ নির্বাচনের ফল ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ ভাগ জনগণ “হ্যাঁ”-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। জনগণের সর্বোচ্চ মতামতকে আমরা সম্মান জানিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও জানাব। এই সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব—ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রথমে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। যেসব দল নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না এবং যাদের নেতাকর্মীরাই নিজেদের মধ্যে নিরাপদ নয়, তারা দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণ পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করেছে এবং ২০২৪ সালে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। তবে সেই রায় থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠন সম্ভব হয়নি, কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী সেই রায় ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে এবং জনগণের মতামতকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবনে সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই সেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও সংসদে উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই দাবি আদায় করা হয়েছিল। এবারও সংসদে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাওয়া হলেও তা না হওয়ায় জনগণের কাছেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা উত্থাপন করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই সংকট তীব্র হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনে পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শিক্ষাখাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে। শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, এর আগে নয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদে থাকা তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।
জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এনএনবাংলা/পিএইচ.

আরও পড়ুন
খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
যুদ্ধ বন্ধের রূপরেখা পেয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: রয়টার্স
ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ