যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনার রূপরেখা পেয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবটি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো। গত রাতে এই রূপরেখাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিকল্পনাটিতে দুই ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে একটি ‘তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির রোববার সারা রাত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
এদিকে সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। পাশাপাশি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তেহরান কোনো ধরনের ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমাও মেনে নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক ভাষায় সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির জ্বালানি খাত ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হতে পারে।
একই দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি দুই ধাপের চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে মার্কিন, ইসরায়েলি এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে রয়টার্স শুরুতে রূপরেখার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ.

আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা
সরকারের প্রথম একনেক সভায় ৪৮৩.৪৩ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন
হামের টিকা ‘সংকটে’ সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় গত সরকারের