বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে। তবে আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদনই খারিজ করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়, দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামের এক ব্যক্তির চোখে গুলি লাগে এবং তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫-১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলেও স্পিকারের পদ সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হয় না। নতুন স্পিকারের শপথ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার বিধান থাকলেও, শিরীন শারমিন চৌধুরী ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করা শিরীন শারমিন চৌধুরী পরবর্তীতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে
সরকারি দলে ৩৬ সংরক্ষিত নারী এমপির দৌড়ে এগিয়ে যারা