মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত তিনজনের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন, যা পরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, চীন ‘ম্যানপ্যাড’ নামে পরিচিত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্য দেওয়া হয়েছে কয়েকটি অনামা সূত্রের বরাতে।
এ খবর এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সংঘাত বন্ধ ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগে চীন পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় তাদের ফুরিয়ে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করে না চীন। তিনি এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। তাদের দাবি, দায়িত্বশীল একটি বড় দেশ হিসেবে চীন সব সময় আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং উত্তেজনা কমাতে সব পক্ষের আরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
কয়েকদিন আগে দূতাবাসের আরেক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাজ করে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য তাপ-অন্বেষী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে। সে সময় ইরান জানিয়েছিল, তারা একটি ‘নতুন’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে ওই ব্যবস্থা চীনের তৈরি কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। তবে চীন সরকার সরাসরি ইরানে অস্ত্র পাঠালে তা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউস বুধবার নিশ্চিত করেছে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলমান আছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত থেকে রক্ষা করার মধ্যে চীন বড় কোনো কৌশলগত লাভ দেখছে না। বরং বেইজিং ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে চায়।
তেহরানের তেলের ওপর বেইজিংয়ের উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে। তাই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ক্ষেত্রে চীন এটিকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে—যাতে রাশিয়ার মতো আক্রমণাত্মক সহযোগিতার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে না ওঠে।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরান শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল, আর চীনের কাছে তারা বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করে আসছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
আঘাত থেকে সেরে উঠছেন মোজতবা, মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র
২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি