পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে রওনা হয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। এ উপলক্ষে যাত্রার সময় বিমান থেকে একটি ব্যতিক্রমী ছবি শেয়ার করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাগের গালিবাফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিমানের তার আশপাশের ফাঁকা আসনগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বহু শিশুর ছবি। মিনাবে একটি স্কুলে মার্কিন মিসাইল হামলায় নিহত হওয়া শিশুদের স্মরণেই এসব ছবি রাখা হয়েছে। ছবিটির ক্যাপশনে গালিবাফ লিখেছেন, ‘এই ফ্লাইটে আমার সফরসঙ্গীরা।’
ছবিতে আরও দেখা গেছে, মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশুদের ছবির পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও আসনগুলোতে রাখা হয়েছে। ‘মিনাব ১৬৮’ নামের এই বিমানটি সাজানো হয়েছে ওই হামলায় নিহত ১৬৮ জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। নিহতদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
হামলার পরপরই ওয়াশিংটন প্রথমে দায় অস্বীকার করলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মিনাবের ওই স্কুলে আঘাত হেনেছিল মার্কিন মিসাইল।
আসন্ন শান্তি আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাত নিরসনের বৃহত্তর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে গালিবাফের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক তৎপরতার এই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে তেহরান সম্ভবত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আসন্ন বৈঠকে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি তারা জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গালিবাফ নিজেই। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের উপরে কোনো আস্থা নেই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুবার আলোচনার মাঝপথে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরানের তরফে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একাধিক যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে তারা।’
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আগামী ১৪ এপ্রিল
আঘাত থেকে সেরে উঠছেন মোজতবা, মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র