Saturday, April 11th, 2026, 4:55 pm

হাতিতে চড়ে বরের আগমন, ঘোড়ার গাড়িতে কনের বিদায়—জয়পুরহাটে ব্যতিক্রমী বিয়ে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

রাজকীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া এনে ব্যতিক্রমী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক বিয়ে। হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের মঞ্চে পৌঁছালেন বর, আর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনে রওনা হলেন ঘোড়ার গাড়িতে। এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বিয়ের আয়োজন দেখতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। আধুনিক সময়ে এমন আয়োজন সচরাচর দেখা যায় না বলে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

বর মো. ফারহান ফয়সাল (২৮) সদর উপজেলার চকমোহন গ্রামের বাসিন্দা ও ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত। কনে মোসা. ফারহানা আক্তার (২৬) একই উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনারপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।

কনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোট মেয়ের বিয়েতে স্মরণীয় কিছু করতে চেয়েছিলেন কনের বাবা দুলাল হোসেন। তার ইচ্ছা ছিল জামাই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসবেন এবং কন্যা ঘোড়ার গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ি যাবেন। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশেষ এই আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বর ফারহান ফয়সাল নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। পথে হাতি ও বরকে এক নজর দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।

বিকেলে কনের বাড়িতে পৌঁছে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরে সন্ধ্যায় কনে ফারহানা আক্তার ঘোড়ার গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ির পথে রওনা দেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষজন ভিড় করেন।

বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা হাতির  হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শুনাতেন।এরপর থেকে আমিও স্বপ্ন দেখি হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে দেখার। সেই ইচ্ছে পূরণের জন্য আজ হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যায়। ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।

বরের বাবা ফজলুর রহমানের  বলেন, ফারহান ফয়সাল তার শশুরের শখ তার প্রিয় জামাই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাবেন। আর মেয়ে ফিরবেন ঘোড়ার গাড়িতে।  সেই ইচ্ছা পূরণ করতে এই আয়োজন। প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকায় হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়।

কনে ফারহানা আক্তার বলেন, ‘আমার বিয়েতে হাতিতে চড়ে বর এসেছে, আমি শশুর বাড়িতে ফিরলাম ঘোড়ার গাড়িতে  এটি আমার জীবনের অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, ছোট মেয়ের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের পরিকল্পনা করেন তিনি। এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই পরিবারের সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। নবদম্পতির জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি।