যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কোনো সমাধানে না পৌঁছালেও দুই পক্ষের সংলাপে বসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকা বলছে, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
রোববার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, “আমরা চাই আলোচনাটা আরও বেগবান হোক এবং এখান থেকে একটি সমাধান আসুক। যদি তা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা সারা বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর হবে।”
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
“প্রত্যেকটি দেশই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে—সব দিক থেকেই। আমরা কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি চাই না,” বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যে কোনো মূল্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধের কারণে শুধু দুই পক্ষ নয়, বরং পুরো বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়ছে।”
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় দুই পক্ষের বসার সিদ্ধান্তই একটি অগ্রগতি।
তবে প্রথম আলোচনা থেকে সমাধান না আসা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, “আমরা চাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসে একটি সমাধানে পৌঁছাক। আলোচনা এখনো চলমান, এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বশেষ লেবাননে একজন নারী কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রথম কোনো প্রবাসী নারী কর্মী এই যুদ্ধে নিহত হলেন।”
নিহতদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তিনি জানান, পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে, একজনকে বিদেশেই দাফন করা হয়েছে এবং আরও একজনের মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে।
লেবাননে নিহত দীপালির মরদেহ আনার বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট ও পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত থাকায় কিছুটা সময় লাগছে।
“আমরা কাজ করছি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মরদেহ দেশে আনতে সময় লাগবে,” বলেন তিনি।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
দেশের শান্তি রক্ষায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আলফাজকে বরখাস্ত করলো মোহামেডান
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব জাহাজ অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের