ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপ। এ লক্ষ্যেই বহুজাতিক সামরিক বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে ফ্রান্সে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন এমানুয়েল মাখোঁ এবং কিয়ার স্টারমার। এছাড়া ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩০ জন নেতা সরাসরি ও অনলাইনে এতে অংশ নিচ্ছেন।
ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, যদি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট এবং জেট ফুয়েলের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে।
বৈঠকের আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনীর প্রধান কাজ হবে সমুদ্রের মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায় বন্ধ নিশ্চিত করা।

ফরাসি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—
- ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা চলাচলরত জাহাজে হামলা চালাবে না
- যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কোনো জাহাজের প্রবেশ বা প্রস্থান বাধাগ্রস্ত করবে না
এর আগে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্যও ইউরোপীয় বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মাখোঁ ও স্টারমার, যা যুদ্ধ শেষে মোতায়েনের পরিকল্পনায় রয়েছে।
এদিকে, এই বৈঠককে ইউরোপের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের প্রাধান্যের কারণে ইউরোপকে অনেকটা সাইডলাইনে রাখা হয়েছিল।
বৈঠকে উপস্থিত আছেন ফ্রিডরিখ মার্জ এবং জর্জিয়া মেলোনি। তবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন না।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, বহুজাতিক সামরিক উদ্যোগের প্রাথমিক পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে লন্ডনের নর্থউডে অবস্থিত সামরিক সদরদপ্তরে বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রধানদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস
নড়াইলে পাওনা টাকা না পেয়ে বসত ঘরের টিনের চালা খুলে নেওয়ার অভিযোগ
হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দরে অবরোধ বহাল থাকবে: ট্রাম্প