আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিট থেকে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
উম্মে রেহানা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় অর্ধেক।
বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা গেছে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এতে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বর্তমানে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটটি ২৬ এপ্রিলের মধ্যে মেরামত শেষে উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে চালুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুই ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে দুপুর ২টার দিকে উৎপাদন কমে প্রায় সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে বিয়ারিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শনাক্ত করা হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে এবং মেরামতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ২০২৩ সালের মার্চে প্রথম ইউনিট এবং একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র
দেশের ২০ জেলায় তাপপ্রবাহের বিস্তার, রাজশাহীতে তীব্র গরম
শান্তর পর ফিজ ঝলকে সিরিজ জয় বাংলাদেশের