নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার রাস্তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। তবে পথে ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা দিনে-দুপুরেও ছিনতাই করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাঝেও বেড়েছে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা। এমন অবস্থায় খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই ছিনতাই এড়াতে জনগণকে নির্জন এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তাছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রমজান মাসে যাতে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্য আগে থেকেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও ঘটছে অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে, টার্মিনালে, বাস স্টপেজে এবং বিভিন্ন সড়কে যানজটে আটকে থাকা যানবাহন থেকে অহরহ মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ওসব দুর্বৃত্তরা শুধু ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত নয়। বাধা পেলেই তারা হামলে পড়ে। ছুরিকাঘাত করে প্রাণনাশের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। ২৭ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাজীপাড়া এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহি বুলবুল। ২৩ মার্চ বংশাল থানার ফটকে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২২ মার্চ মাহমুদ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি শাহবাগ থেকে রিকশায় সেগুনবাগিচা যাওয়ার সময় রমনা পার্কের কাছে কয়েকজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার কাছে থাকা মূল্যবান সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। ২০ ফেব্রুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মোশাররফ হোসেন নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়।
সূত্র জানায়, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের সক্রিয় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন ৫ শতাধিক ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে। তাদের অধিকাংশই মাদকসেবী। ওই তালিকা অনুযায়ী উত্তরা বিভাগে ৫২ জন, মিরপুর বিভাগে ৫৬ জন, গুলশান বিভাগে ৯৭ জন, রমনা বিভাগের ১১৬ জন, তেজগাঁও বিভাগের ১২২ জন ও ওয়ারী বিভাগে শতাধিক ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। ভোরে পুলিশি নিরাপত্তার ঢিলেঢালাভাব থাকার সুযোগটা ছিনতাইকারীরা নিচ্ছে। মধ্যরাত থেকে কোলাহলমুক্ত ভোরেই বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। ছিনতাইকারীরা কখনও মোটরসাইকেল, কখনও প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস নিয়ে পথচারী বা রাস্তায় অপেক্ষমাণ ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোন সেট, মূল্যবানসামগ্রী, ভ্যানিটি ব্যাগ, গলার চেন ছিনিয়ে নেয়।
সূত্র আরো জানায়, ঢাকা মহানগরীর ৫০ থানার শতাধিক স্থানে ৫ শতাধিক ছিনতাইকারী তৎপর রয়েছে। ছিনতাইকারীরা ৩-৪ জন করে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মূলত অপরাধ সংঘটিত করে। ছিনতাইয়ের কাজে বেশিরভাগ ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে। গোয়েন্দা সংস্থার ভুয়া পরিচয় দিয়েও ছিনতাইকারীরা মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয়। আর ২০টির বেশি চক্র রয়েছে যারা শুধু মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। ওসব মোবাইল সেট তারা আইএমই নাম্বার পরিবর্তন করে বিক্রি করে দেয়।
এদিকে এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিবি-দক্ষিণ) মো. মাহবুব আলম জানান, ছিনতাই-ডাকাতির মামলা নিতে যদি কোনো থানা অনীহা প্রকাশ করে তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ছিনতাই বা ডাকাতি হওয়ার পরও কোনো থানা মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন
টোকা দিয়ে ফেলতে যেও না, তোমাদের বাপ-মায়ের বিয়ের আগে থেকে রাজনীতি করি: মির্জা আব্বাস
ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এসি চালানো শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সরকারি ৮ কর্মকর্তা