Friday, January 20th, 2023, 8:16 pm

আখের অভাবে জয়পুরহাট চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ

দেশের বৃহত্তম চিনিকল-জয়পুরহাট সুগার মিলস্ লিমিটেডের চলতি ২০২২-২ মৌসুমের আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

মাড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আখ না পাওয়ায় ধার্যকৃত সময়ের আগেই বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ১২টায় বন্ধ হয়ে গেল চিনিকলটি।

ফলে ব্যাহত হয়েছে চিনি উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা। তাই এবারও জয়পুরহাট সুগার মিলকে বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে।

জয়পুরহাট সুগার মিলস্ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুসারে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট সুগার মিলস্ লিমিটেডে ৩০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে এক হাজার ৮শ’ ৬৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।

এবার আখ থেকে চিনি আহরণের হার (রিকোভারি) ধরা হয়েছিল ছয় দশমিক ২০ শতাংশ। আখ মাড়াইয়ের জন্য মোট ২৫ কর্মদিবস চিনিকলটি চালু রাখার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রয়োজনীয় আখ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে মিলটির (চিনিকলের) কোন লক্ষ্যমাত্রাই অর্জিত হয়নি।

আখের অভাবজনিত কারণে ১৯ কর্মদিবসে মোট ২৩ হাজার ১৬৯ দশমিক ১৬ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১২শ’ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬শ’ ৬৬ মেট্রিক টন কম।

এবার আখ থেকে চিনি আহরণের হার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক দশমিক ১২ শতাংশ কম, মাত্র পাঁচ দশমিক ০৮ শতাংশ পাওয়া গেছে।

ফলে সঙ্গত কারণে এবারও লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে বৃহৎ এ চিনিকলটিকে।

জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখলাছুর রহমান জানান, জয়পুরহাট চিনিকলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরের অন্য চিনিকল (মিল) এলাকার আখ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাড়াইয়ের জন্য এ চিনিকলে ঠিকমত সরবরাহ না পাওয়ায় কার্যত আখ সংকটের কবলে পড়ে চিনিকলের আখ মাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়েছে।

এছাড়া আখের গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় এবং আখের চেয়ে অন্যান্য ফসলের চাষ বেশি লাভজনক হওয়াসহ নানা কারণে ২০ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনোক্ষম জয়পুরহাট চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

গত ২০২১-২২ মৌসুমের ৬৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর এ চিনিকলে চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, প্রয়োজনীয় আখের অভাবে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ক্রমাগত ব্যাহত হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের এ বৃহৎ চিনি শিল্প ইউনিটটিকে প্রতি মৌসুমেই বিশাল অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

—-ইউএনবি