ভাষার মাসের শেষ দিন গতকাল পর্দা নামল অমর একুশে বইমেলার। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের অনেকেই এদিন মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে বই কেনেন। এবার ২৮ দিনে মোট নতুন বই এসেছে ৩ হাজার ২৯৯টি। বইমেলার পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ড. সরকার আমিন বলেন, এবারের বইমেলার থিম ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’। বইমেলার অবয়বে তিনটি রঙের প্রাধান্য ছিল—লাল, কালো ও সাদা। লাল সংগ্রামের প্রতীক, কালো শোকের প্রতীক এবং সাদা শান্তির প্রতীক। বইমেলায় দলে দলে তরুণেরা উপস্থিত হয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা এসেছেন প্রাণের তাগিদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সবার অংশগ্রহণে বইমেলা সফল হয়েছে।
পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বলেন, ‘এবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭০৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৮৪ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। বাংলা একাডেমিসহ ৩৭টি প্রতিষ্ঠান উভয় প্রান্তে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পায়। এক ইউনিটের ৩৮৪টি, দুই ইউনিটের ২১৯টি, তিন ইউনিটের ৬১টি এবং চার ইউনিটের ২৩টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। শিশুদের জন্য ৭৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১২০টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে। এ চত্বরে ১৩০টি লিটলম্যাগ স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়।’
এ বছর শিশু চত্বর মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডানদিকে বড় পরিসরে রাখা হয়, যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। বইমেলার শুরুতেই প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত (৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যতীত) শিশু প্রহর ঘোষণা করা হয়েছিল। শিশুসহ অভিভাবকরা আগে থেকে এ বিষয়ে অবগত হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত দিনে মেলায় আসার সুযোগ পেয়েছেন।
বইমেলায় দেয়া সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি এবার মেলায় তথ্যকেন্দ্র, নামাজের স্থান, টয়লেট ব্যবস্থা, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, সরাসরি সম্প্রচার, নিরাপত্তা, মোড়ক উন্মোচন, ‘লেখক বলছি’ ও ‘জুলাইয়ের গল্প’ মঞ্চ, মাসব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলায় আগত লেখক, প্রকাশক এবং আগ্রহী পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থীদের সেবা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এবার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ পেয়েছেন অধ্যাপক হান্স হার্ডার ও কথাশিল্পী বর্ণালি সাহা এবং কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ পেয়েছেন কবি আল মুজাহিদী। এছাড়া বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হচ্ছে। এগুলো হলো: চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার।
তিনি আরো বলেন, বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতোই অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তনও আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট ৪টি প্রবেশ ও বাহির পথ রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৩ টাকার বই বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন
সবাইকে ভোট দেওয়া ও জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির
দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল কখন, জানালেন ইসি সানাউল্লাহ