ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওতাধীন ডেমরা থানা শাখার উদ্যোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর “রাজনৈতিক দর্শন” -শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-কে গনমুখী দল হিসেবে রূপ দিয়েছেন পীর সাহেব চরমোনাই রহ.। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির স্বতন্ত্র গতিপথ সৃষ্টি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রহ. রাজনীতিকে রূহানিয়াতের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ক্ষমতার মোহ, টাকার বিনিময়ে নীতি-আদর্শের স্বস্তা বেচা-কেনা, দামানেউঠানো, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বিভেদ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো রাজনীতিতে রূহানিয়াত না থাকা। আবার রাজনীতিতে জিহাদী চেতনা না থাকলে বিরাট একটি কাফেলাও অঙ্কুরে কিংবা মাঝপথে গতিধারা বন্ধ হয়ে যেত পারে। সেজন্য তিনি রাজনীতিতে রূহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতির শ্রেণী বিভাগে জাতিকে অনিশ্চিত গন্তব্যে ধাবিত হতে দেখে তিনি ইসলামী আন্দোলনকে গনমুখী দল হিসেবে রূপ দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করতেন, শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কোন জাতির কাঙ্খিত মুক্তি আসতে পারে না। শাসক ভালো কিন্তু শাসনতন্ত্র ভালো না, শাসনতন্ত্র ভালো কিন্তু শাসক ভালো না। এভাবে জাতির কল্যাণ আসতে পারে না। এজন্য তিনি দীপ্ত কণ্ঠে বলতেন “শুধু নেতা নয়; নীতিরও পরিবর্তন চাই”।
তিনি আরও বলেন, হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রহ.-ই প্রথম, যিনি বাংলাদেশে সমন্বিত রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করেন। সাধারণত যারা সুফীবাদী ইসলাম পালন করেন, তাঁরা রাজনীতিতে আসতে চায় না। আবার যারা রাজনৈতিক ইসলাম পালন করে তাঁরা আধ্যাতিকতা পলনে বেশি সচেষ্ট না। যারা সাধারণ রাজনীতি করে তারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তিনি এ দেশের ইসলামী রাজনীতির স্বতন্ত্র ধারা ও গতিপথ সৃষ্টি করেছেন। ব্যক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিকে একত্রে করেছেন। কারণ তিনি মনে করতেন ব্যক্তি দ্বারা সমাজ প্রভাবিত হয় এবং সমাজ দ্বারা ব্যক্তি প্রভাবিত হয়। শিক্ষা ও তাসাউফ ছাড়া যেমন ব্যক্তি সংশোধন করা যায় না তেমনি ভাল রাজনীতি ছাড়া একটি সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যায় না।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ সভাপতি এম এইচ মোস্তফা।
প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম নাসির উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দাওয়াহ ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নাজমুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ডেমরা থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ মনিরুস সালেহীন।
বার্তা প্রেরক
রায়হান উদ্দীন মিনা
প্রচার সম্পাদক, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

আরও পড়ুন
নড়াইলে বিনামূল্যে আখের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ
সখীপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন
সারিয়াকান্দিতে মাদ্রাসা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান আবুল কাসেম, ফুলের শুভেচ্ছা