Tuesday, November 18th, 2025, 2:33 pm

৬৭৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

 

চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ পথে উপার্জিত বিপুল অর্থের মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। প্রাথমিক তথ্যে চোরাচালান ও উৎসহীন অর্থের সত্যতা পাওয়া গেলে সোমবার গুলশান থানায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডি আরও জানায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দেশ–বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার আড়ালে বহুদিন ধরে অর্থপাচার ও চোরাচালানে জড়িত ছিলেন। ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে বৈধভাবে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকার স্বর্ণবার, অলংকার ও লুজ ডায়মন্ড আমদানি করে। একই সময় স্থানীয় বাজার থেকে তারা বিনিময়, পরিবর্তন ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করলেও এর বৈধ উৎস বা সরবরাহকারীদের কোনো নথি সিআইডিকে দেখাতে পারেনি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত স্বর্ণ ও হীরার বড় অংশ চোরাচালানের মাধ্যমেই দেশে এসেছে বলে সিআইডি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও অপরাধলব্ধ অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর ও ব্যবহারের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ শেষে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে অনুসন্ধান প্রতিবেদন অতিরিক্ত আইজিপি, সিআইডির কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলা করার অনুমোদন পায়। গুলশান থানায় দায়ের হওয়া এ মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্বও সিআইডিই পালন করবে। প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্টদের তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

এনএনবাংলা/