ইরানি রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম রেকর্ডভাবে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) খোলা বাজারে এক ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক আলোচনার থমকে যাওয়াই রিয়ালের অবমূল্যায়নের প্রধান কারণ।
বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে, সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী ১ টাকায় পাওয়া যাবে ১০,৭০০ ইরানি রিয়াল। তবে ইরানের স্থানীয় বাজারে এই অর্থ দিয়ে এক বোতল পানি পাওয়া যায় না; সর্বোচ্চ একটি ছোট চকলেট কেনা সম্ভব।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
রিয়ালের দরপতন ইরানের সাধারণ জনগণের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে। খাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন জটিল হয়ে উঠেছে। ৫৩ বছর বয়সী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আলী মোশতাগ বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ কমে যাওয়ায়, সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হচ্ছে। সরকার কি পুরোনো অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে, তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতি পুনরায় গ্রহণ করেছেন। এছাড়া পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে।
এই অবস্থা ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, যা দেশটির স্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে: প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ
এস আলমের আরও ৪৩১ শতাংশ জমি স্থাপনাসহ জব্দের আদেশ
জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল