Monday, December 8th, 2025, 2:42 pm

ট্রাইব্যুনালে হাসিমুখে শাজাহান খান, বিষণ্ণ পলক

 

শীতের সকাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা। ধীরে ধীরে অফিসে ঢুকছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঠিক সেই সময় নীল রঙের একটি প্রিজনভ্যান এসে থামে চত্বরের ভেতর। ভ্যান থেকে নামানো হয় দেশের রাজনীতির একসময়ের প্রভাবশালী বহু সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে। কারও হাতে হাতকড়া, কারও মাথায় হেলমেট—কেউ মাথা নিচু করে আবার কেউ লাঠির ভর দিয়ে হাজতখানার দিকে যান।

তবে পূর্বের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান হাসিমুখেই এগিয়ে যান আদালত চত্বরে। আর সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলককে দেখা যায় কিছুটা গম্ভীর ভঙ্গিতে।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজনের হাজিরার দিন নির্ধারণ ছিল সোমবার (৮ ডিসেম্বর)।

সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে ১৬ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ। পরে তাঁদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলার অগ্রগতির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ দিন আদালতে আনা আসামীদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। অসুস্থতার কারণে সাবেক এমপি ফারুক খানকে এদিন আদালতে আনা হয়নি।

সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, ইনু এবং পলকের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ফরমাল চার্জ দিয়েছে প্রসিকিউশন। ইনুর মামলায় ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়।

এ ছাড়া আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে কারফিউ জারি করে সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে, যেগুলোর শুনানির তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগের সভাপতিসহ আরও সাতজনের তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র। শিগগিরই তাঁদের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক চার্জ জমা দেওয়া হবে।

গত ১৫ অক্টোবর পৃথক আরেক মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে তদন্তের জন্য প্রসিকিউশন সময় চাইলেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন সময় দেওয়া হয়।

এদিকে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরজুড়ে ছিল কড়াকড়ি নিরাপত্তা। প্রতিটি প্রবেশপথে নজরদারি ও তল্লাশি চালাতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

চলতি বছরের ২০ এপ্রিলও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৯ জনকে হাজির করা হয়। তার আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ১২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দুই সাবেক উপদেষ্টাসহ আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছিল। সব মিলিয়ে একসময়ের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এনএনবাংলা/