Monday, December 8th, 2025, 3:41 pm

আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া, আসছে না এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাতার সরকারের ব্যবস্থায় পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আপাতত ঢাকায় আসছে না। ফলে বর্তমানে লন্ডনে তার যাত্রাও স্থগিত থাকছে।

এর আগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি নিয়েছিল। তবে সোমবার সংশ্লিষ্ট পক্ষ সেই অনুমতি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানটি আর ঢাকায় অবতরণ করছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্থানীয় সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্বে দেওয়া স্লট অনুমোদন প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে, রোববার এয়ারক্রাফট অপারেটরের প্রাথমিক আবেদনের ভিত্তিতে বিমানটিকে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অবতরণ এবং একই দিন রাত ৯টার দিকে উড্ডয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এটি বোমবার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের একটি বিজনেস জেট, যা দীর্ঘ দূরত্বের মেডিকেল ইভাকুয়েশনের জন্য বহুল ব্যবহৃত। চ্যালেঞ্জার ৬০৪ এর শক্তিশালী ট্রান্সকন্টিনেন্টাল সক্ষমতা থাকায় ঢাকা–লন্ডন রুটে মেডিকেল ট্রান্সফারের জন্য এটি উপযোগী বিবেচিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। তার রোগগুলোর মধ্যে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস (বাত) এবং কিডনির জটিলতা রয়েছে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত কয়েকদিন ধরেই তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ চলছিল।

গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এর পরদিন ২৭ নভেম্বর তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তিনি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এনএনবাংলা/