Tuesday, December 9th, 2025, 5:42 pm

শোক ও শ্রদ্ধায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ছবি: মঈন আহমেদ

 

গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হলো সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বমহলে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন এই ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান ঘটেছিল ৮৩ বছর বয়সে।

সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপি, অমায়িক, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর সাদা মনের মানুষ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ নেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক মন্ডলী সভাপতি।

আজ (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে দোয়া ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্য, স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার কবরের পাশে গিয়ে ফাতেহা পাঠ করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ছেলে জাবেদ হোসেন, ছোট ছেলে ও দ্য নিউ নিশন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরশাদ হোসেন, ভাগ্নে মহিবুল আহসান, নাতনি আরিশা হোসেন সহ পরিবারের সদস্য, দৈনিক ইত্তেফাক ও দ্য নিউ নেশন -এর সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এর পর বাদ জোহর আর কে মিশন রোডস্থ ইত্তেফাক ভবনে মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে পরিবার বর্গের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমরে রুহের মাগফিরাত কামানা করে এই দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ছেলে জাবেদ হোসেন, ছোট ছেলে ও দ্য নিউ নিশন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরশাদ হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন মোঃ বাবর, বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, আইনজীবী এবং নিউ নেশনের সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালের ১৯৭৩ সালে পিতৃভূমি পিরোজপুর থেকে প্রথম জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রচলন করা হলে গণতন্ত্রের পক্ষে থেকে তিনি সংসদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন দক্ষতার সঙ্গে।

তিনি সামরিক স্বৈরাচারের তীব্র সমালোচক ছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিবাদী অবস্থানের কারণে তিনি ছিলেন জাতির বিবেক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ২০০০-২০০১ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য। শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণে আইন অঙ্গনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই সিনিয়র আইনজীবীর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন সাংবিধানিক মামলায় আদালতের আহ্বানে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মত তুলে ধরেন তিনি। অসংখ্য আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাও পরিচালনা করেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

গণতন্ত্র, গণ-মানুষের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আজীবন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এনএনবাংলা/