Tuesday, December 16th, 2025, 12:56 pm

মহান বিজয় দিবস আজ: গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা

 

আজ ১৬ ডিসেম্বর। ৫৫তম মহান বিজয় দিবস। ৯ মাসের সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ, উড়তে শুরু করে লাল-সবুজের পতাকা।

এবারের মহান বিজয় দিবস এসেছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা করছে গোটা জাতি। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বিজয় দিবস গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করেছে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে এই চূড়ান্ত বিজয়।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে নবযাত্রা সূচিত হয়েছে তা যে কোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন।’

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন, সড়কদ্বীপ ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

রাজধানীর পাড়ামহল্লা, সড়কের মোড়ে মোড়ে বাজছে মুক্তির অবিস্মরণীয় গান। বাড়ির ছাদের কার্নিশে, অফিস-আদালত, দোকানপাটে, অনেক যানবাহনে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা।

জাতি আজ পরম শ্রদ্ধা আর গভীর কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে দেশের স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদি ভরে উঠেছে অগণিত মানুষের নিবেদিত শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে।

এনএনবাংলা/