Tuesday, December 16th, 2025, 1:19 pm

দুদকের তদন্তে ৭ দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের আরও ৬১৫ সম্পদের সন্ধান

 

পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে নতুন করে আরও ৬১৫টি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনসহ সাতটি দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পাওয়া ৬১৫টি সম্পদের নথিসহ দুদকের হাতে বর্তমানে মোট প্রায় ১ হাজার ১০০টি সম্পদের তথ্য রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি, বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স। প্রায় ১০টি দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকা।

দুদক ও বিএফআইইউ সূত্রে জানা যায়, নতুন করে পাওয়া ৬১৫টি সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ যুক্তরাজ্যে। সেখানে নতুন করে ৩৮১টি সম্পদের তথ্য মিলেছে। এর আগে যুক্তরাজ্যেই জাবেদের নামে ৩৪৩টি সম্পদের তথ্য পেয়েছিল দুদক। সব মিলিয়ে শুধু যুক্তরাজ্যেই তাঁর ৭২৪টি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেল।

নতুন তথ্য অনুযায়ী— কম্বোডিয়ায় ১১১টি সম্পদ (বাজারমূল্য ৩ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৮ মার্কিন ডলার), মালয়েশিয়ায় ৪৭টি সম্পদ (মূল্য ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ২৪২ ডলার), ফিলিপাইনে ২টি সম্পদ (মূল্য ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯০ পেসো, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ কোটি), ভারতে হরিয়ানা ও উত্তর চব্বিশপরগনাসহ মোট ১১টি সম্পদ (মূল্য ৯ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার ৬৪ ডলার), থাইল্যান্ডে ২৪টি সম্পদ (মূল্য ৩৬ কোটি ৩১ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ থাই বাত), যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি সম্পদ ও ২টি কোম্পানির লাইসেন্স, ভিয়েতনামে ৩০টি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডেও জাবেদের সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ।

অভিযোগ তদন্তের নেতৃত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান বলেন, “আমরা যে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছি, তাতে এখন পর্যন্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রীর নামে এক হাজারের বেশি সম্পদের নথি পাওয়া গেছে। একটি নথিতেই ভিয়েতনামে তাঁর ৩০টি সম্পদের তথ্য রয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএফআইইউর এক কর্মকর্তা জানান, জাবেদ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচারের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করেন। অবৈধ অভিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ তিনি সেসব দেশের এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতেন। পরে দেশে প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে টাকা পরিশোধ করা হতো। এই পাচারকৃত অর্থ দিয়েই তিনি ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যবসা ও কোম্পানি গড়ে তোলেন, যা পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, “পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স পাঠাতে হবে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়, তাদের সঙ্গে আমাদের কার্যকর চুক্তি নেই বললেই চলে। তাই কাজটি কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রক্রিয়া কঠিন হলেও দুদককে সঠিক পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দুর্নীতির সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলো পাচারের অর্থ ফেরতে সহযোগিতা না করে অনেক সময় উল্টো সুরক্ষা দেয়—এটি তাদের দ্বৈত নীতির বহিঃপ্রকাশ।”

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাজ্যে জাবেদ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সে দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে পারে দুদক।

এনএনবাংলা/