Sunday, December 21st, 2025, 8:35 pm

মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আটক সেই হান্নানের জামিন

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আটক আব্দুল হান্নান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর পুলিশের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আব্দুল হান্নান ওই মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক নন। নম্বরের একটি বিভ্রান্তির কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর গত ১৩ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন হিসেবে আব্দুল হান্নানকে র‍্যাব-২ আটক করে। পরে তাকে পল্টন মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডকালে তাকে একটি মোটরসাইকেল শোরুমের মালিকের মুখোমুখি করা হয়।

এছাড়া বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হান্নানের নামে নিবন্ধিত দুটি যানবাহনের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে একটি সুজুকি জিক্সার এবং অন্যটি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা ব্র্যান্ডের হর্নেট মডেলের। হান্নানের মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫, যা একটি সুজুকি জিক্সার। তদন্তে দেখা যায়, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরের সঙ্গে একটি সংখ্যার গরমিল রয়েছে—যেখানে শেষে ৬ থাকার কথা, সেখানে ৫ শনাক্ত করা হয়েছে।

রিমান্ড শেষে গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একইদিন পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নম্বরের ভুলের কারণেই আব্দুল হান্নানকে আটক করা হয়েছিল এবং তিনি প্রকৃত মালিক নন। পরবর্তীতে আজ তিনি জামিনে মুক্তি পান।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ারের সামনে মোটরসাইকেলে আসা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার সহযোগীরা চলন্ত একটি অটোরিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

এনএনবাংলা/