Monday, January 5th, 2026, 3:32 pm

আনিসুল হকের সাড়ে চার কোটি টাকার গাড়িসহ ৫৮৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ

 

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন তিনটি গাড়ি ও মোট ৫৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল এবং গাজীপুরের কালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মোট ৫৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমির বাজারমূল্য এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭৯ টাকা।

জব্দের আদেশপ্রাপ্ত তিনটি গাড়ির মধ্যে একটির মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা, দ্বিতীয়টির দাম ৬১ লাখ টাকা এবং তৃতীয়টির মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জমি ও গাড়ি জব্দের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসাধু উপায়ে নিজ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও ঘুষের অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে অবৈধ অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এসব সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। অন্যথায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পিএস শফিকুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

এদিকে, একই মামলার প্রেক্ষিতে আনিসুল হকের একান্ত সচিব (পিএস) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে বর্তমানে ৫০ লাখ ১৪ হাজার ৮১৮ টাকা জমা রয়েছে।

মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের ব্যাংক হিসাব খোলার সময় আয় ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ প্রাপ্তির বৈধ দলিল না থাকলেও বিপুল পরিমাণ নগদ, ক্লিয়ারিং ও স্থানান্তরের মাধ্যমে টাকা জমা হয়েছে। এসব লেনদেন তার পেশা ও আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অপরাধলব্ধ অর্থ তার বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন, স্থানান্তর কিংবা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এ কারণে অর্থ আত্মসাত বা পাচার ঠেকাতে তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এনএনবাংলা/পিএইচ