Monday, January 5th, 2026, 3:36 pm

সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১২৩ বার পেছাল

 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১২৩ বার সময় পিছিয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে উপস্থিত হয়েও প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে এ দিন নির্ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চার দিন পর আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে দেওয়া হয়।

সবশেষে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ অক্টোবর পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। কমিটিকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।এনএনবাংলা/পিএইচ