জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে শহর ও আশপাশের উপজেলায় হঠাৎ করে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। একদিকে হিমেল হওয়া, অন্যদিকে সূর্যের আলো নেই। গভীর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। সোমবার মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন।
এদিকে হঠাৎ করেই শীত বাড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমুল মানুষ। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রার পরিমাণ।
মৌলভীবাজারস্থ শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার আনিসুর রহমান বলেন, আজ সোমবার মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রোববার মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবার সর্ননিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারে তীব্র শীত জেঁকে বসছে বলে মনে করছে আবহাওয়া অফিস।
সোমবার সারাদিন দেখা মেলেনি সূর্যের। তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শীত পড়ায় মৌলভীবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলার রাস্তা-ঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। সকালে ব্যবসায়ীরা দোকানপাটও খুলছেন দেরিতে। আবার রাত ১০ টার পর শহরে লোকজনের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। একইসাথে যানবাহনের পরিমাণও কমছে। রাত ১১টা পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পুরো শহর। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। গ্রামাঞ্চলে রাত ৮টার পর আর লোকজন বাইরে থাকছে না। রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব ধরনের দোকানপাট। আবার পরের দিন বেলা ১০টার আগে দোকানপাট খুলছেন না ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, তীব্র শীতের কারণে শহরে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ভিড়। অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে রাস্তার ফুটপাতেও গরম কাপড়ের দোকানে লোকসমাগম দেখা যাচ্ছে।
শীত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। প্রতিদিন শহরের চৌমুহনীতে শ্রমিক শ্রেণির সাধারণ মানুষদের কাজের সন্ধানে বসে থাকতে দেখা যায়। দুপুর পর্যন্ত বসে থেকেও কাজের সন্ধান পাননি তারা। আবার শীতের কারণে অনেকেই বাড়ি থেকে বের হননি। যারা বের হয়েছেন তাদেরও আসতে দেরি হয়েছে। যার কারণে কাজের সন্ধানে শহরের বিভিন্ন মোড়ে বসে থাকা শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক কমেছে।
কাজের সন্ধানে শমসেরনগর রোডে বসে থাকা শাহেদ মিয়া বলেন, শীত বাড়ার কারণে সকালে এইখানে আসতে দেরি হয়েছে। যার কারণে আজ আর কাজ পাননি তিনি। সঙ্গে থাকা সুজন মিয়া বলেন, তীব্র শীত পড়লে তাদের অনেক কষ্টে দিন পার করতে হয়। একদিকে থাকে কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে শীতের মধ্যে কাজ করা নিয়েও দুশ্চিন্তা।
কাজ না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা মুশকিল হয়ে যায় বলে তারা সকাল সকাল এখানে এসে বসে থাকেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরা শীতের কারণে বেশি বেকার হয়ে পড়েছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা থাকছে। সেই সঙ্গে শীতের তীব্রতা গ্রামেও বেশি। এতে গ্রামের শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। যারা কাজ করছেন তাদের শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, শীতার্থ মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৯৭টি সরকার থেকে পাওয়া গেছে। উপজেলা থেকে সকল কম্বল ইউনিয়নওয়ারি বিভাজন করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর উপবরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৯হাজার ৯৮৭ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৭০০ টি কম্বল। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


আরও পড়ুন
সাপাহারে জমি নিয়ে বিরোধে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার-৫
উলিপুরে ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টৈ জরিমানা
নাসিরনগরে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশত আহত