Monday, January 5th, 2026, 7:24 pm

রংপুরে বিভাগে সরিষার ফলন ভাল হয়েছে

রংপুর :

চলতি মৌসুমে  রংপুর বিভাগে  সরিষার  বীজ বিতরণ করায়  আবাদ ভাল হয়েছে । বিনা সরিষা ৮ জেলায় ৪২ শ কৃষককে  আড়াই কেজি করে বিনা মূল্যে বীজ  করেছে । ৫৯ টি উপজেলায়  ১০০টি প্রদশর্নী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২২০০০ জন কৃষকে ২২০০০ কেজি বীজ বিতরণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল: ২৭৮৬৬ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ২৪২৫৫ হেক্টর।

ুরংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪২৫ অর্থবছরে জেলার আটটি উপজেলায় ২৫ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে সেই আবাদ নেমে এসেছে ২৪ হাজার ২৫৫ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরে সরিষার আবাদ কমেছে ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমি। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি কমেছে পীরগঞ্জ উপজেলায়। গত বছরের তুলনায় সেখানে ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে কম সরিষা আবাদ হয়েছে। এরপর রয়েছে কাউনিয়া উপজে৫১৫ হেক্টর এবং রংপুর সদর উপজেলায় ২২০ হেক্টর জমিতে কম সরিষার চাষ হয়েছে। এ বছর রংপুর জেলারআটটি উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৬৬ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমি সময়মতো প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরিষা চাষে আগ্রহ থাকলেও অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আবাদ করতে পারেননি। পীরগঞ্জের কৃষক আবুল বাশার, বাচ্চু ও আলামিন জানান, “এ বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে জমি সরিষার উপযোগী করা যায়নি।অথচ সরিষা চাষ করলে কম খরচে ভালো লাভ করা সম্ভব ছিল।” তাঁরা বলেন, “গত বছর সরিষা বিক্রি করে প্রত্যেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করেছি। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষায় ঝুঁকি কম ও লাভ বেশি।” কাউনিয়া উপজেলার বাহাগিলী গ্রামের কৃষক রতন মোল্লা বলেন, “আমাদের এলাকার জমি উঁচু হওয়ায় কিছু জমিতে সময়মতো সরিষা আবাদ করা গেছে। কিন্তু থাকায় পারেননি। তারা আলুসহ অন্যান্য ফসলে ঝুঁকেছেন।”

অসময়ে বৃষ্টি ও মাটির অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কম খরচে লাভজনক ফসল হওয়া সত্ত্বেও এ বছর গত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ কম হয়েছে। কৃষকেরা সরিষা বাদ দিয়ে আলু, ভুট্টাসহ বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার পেলেও মাঠ নিচু হওয়ায় পানি জমে ছিল। তাই এ বছর সরিষা আবাদ করা সম্ভব হয়নি।”পীরগাছা উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক ছাইদুর রহমান জানান, “যে জমিতে আগে সরিষা করতাম, বন্যার কারণে এবার সেখানে ধান চাষের উপযোগী করে তুলছি।” অন্যান্য কৃষকেরা জানান, সরিষা আবাদ ব্যাহত হলে লোকসানের ঝুঁকি বেশি থাকে। অন্যদিকে ভুট্টা বা অন্যান্য ফসলের ফলনআশানুরূপ না হলেও ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম। এ কারণেই অনেক কৃষক সরিষা বাদ দিয়ে বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অসময়ে বৃষ্টি, মাটির অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এ বছর সরিষার কিছুটা কমেছে।তবে যেসব জমিতে সরিষা করা যায়নি, সেসব জমিতে পানি নেমে যাখ্যায়ান্য পর কৃষকেরা ভুট্টাসহ করেছেন।

বিনা রংপুর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মো: রফিকুল  ইসলাম  জানান রংপুর বিভাগের রংপুর জেলা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট , নীলফামারী , গাইবান্ধা, দিনাজপুর , ঠকুরগাঁও , পন্চগড় জেলায় চলতি বছর বিনা সরিষা -১১ জাতের চাষ ভাল হয়েছে । তিনি  জানান ৮ জেলায় ৪২ শ কৃষককে  আড়াই কেজি করে বিনা মূলে বীজ দেয়া হয়েছে । তিনি আর বলেন ৮  জেলার  ৫৯ টি উপজেলায়  ১০০টি প্রদশর্নী প্লট স্থাপন করা হয়েছে । এতে কৃষককে হাতে কলমে পরামর্শ দেয়া হয়েছে । এতে করে সরিষার ফলন ভাল হবে। কৃষক তেলের উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।