Tuesday, January 6th, 2026, 1:59 pm

শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে এক ভিপি প্রার্থীর স্ত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তিনি ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রশিবির–আপ বাংলাদেশ–ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মহিমা আক্তার এ ঘটনার মুখোমুখি হন বলে জানান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজাব ও মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় মহিমা আক্তার ক্যাম্পাসের বাইরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পরিচয় জানতে চেয়ে মাস্ক ও নিকাব খুলতে বলেন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মহিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ছাত্রদলের কিছু কর্মী সেখানে এসে তাকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি করে এবং হিজাব ও মুখের মাস্ক খোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তাকে হেনস্তা করে।

ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামও একই অভিযোগ তুলে বলেন, তার স্ত্রী প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। তবে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন।

অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সেখানে কোনো হেনস্তার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, একজন সাবেক শিক্ষার্থী বাইরে প্রচারণা চালাচ্ছেন—এমন তথ্য পেয়ে শিক্ষকরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই জকসু নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বেলা ৩টা পর্যন্ত একটানা চলার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল দুটির মধ্যে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ