Tuesday, January 6th, 2026, 2:12 pm

সারজিস আলমের আয়ের তথ্যে গরমিল; রিটার্নে ২৮ লাখ টাকা, হলফনামায় ৯ লাখ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সারজিস আলমের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা নথিপত্রে আয়ের তথ্য নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে। পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীর হলফনামায় ঘোষিত আয়ের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম নিজের পেশা ব্যবসা বলে উল্লেখ করেছেন এবং বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে তার ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে মোট আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় দেওয়া আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একই নথিতে আয়ের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করার বিষয়টি নজরে এসেছে।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদের হিসাবেও গরমিল রয়েছে সারজিস আলমের। আয়কর রিটার্নে তিনি মোট ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করলেও হলফনামায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন।

হলফনামা থেকে জানা যায়, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি উপহারপ্রাপ্ত ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।

২০২৫-২৬ করবর্ষে সারজিস আলম ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর (যারা আত্মীয় নন) কাছ থেকে তিনি মোট ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নথিপত্রে আরও দেখা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ি ও চাচা-মামাদের কাছ থেকেও তিনি উপহার হিসেবে অর্থ পাচ্ছেন। তবে ইসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্ক্যান কপিতে টাকার প্রথম অঙ্ক স্পষ্ট না হওয়ায় সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও রয়েছে।

এদিকে সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ