রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের বিরুদ্ধে আবারও শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে খুব শিগগিরই দিল্লির ওপর আমদানি-রপ্তানি শুল্ক আরও বাড়ানো হবে। রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। তিনি জানতেন যে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আমাকে সন্তুষ্ট রাখা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আমরা দ্রুত ভারতের ওপর শুল্ক বাড়াব, যা দিল্লির জন্য ক্ষতিকর হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।
২০২৫ সালে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের এই হুমকি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এর আগেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ায় ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। মাদুরোকে আটকের পর দিল্লি সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সাধারণ আমদানি শুল্ক কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ১ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়, ফলে মোট শুল্কহার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে এ আমদানির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। জি–৭ দেশগুলো রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে নির্ধারণ করলে মস্কো ছাড়ে তেল সরবরাহ শুরু করে। বর্তমানে রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারত রাশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যা আগের বছরের অক্টোবরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কম। এক মাসের ব্যবধানে এটি ছিল সবচেয়ে বড় পতন। ওই মাসে ভারত আমদানি করে ৭১ দশমিক ৬ লাখ টন রাশিয়ান তেল, যেখানে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এ পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৮ লাখ টন—অর্থাৎ প্রায় ২৯ শতাংশ হ্রাস।
এদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের তেল আমদানি গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আগে গত অক্টোবরে রাশিয়ার তেল কিনতে ভারত ব্যয় করেছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো।
রয়টার্সের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্রিয় চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। এর ফলে রাশিয়া থেকে দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানি ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসতে পারে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন, তবে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে: প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ
এস আলমের আরও ৪৩১ শতাংশ জমি স্থাপনাসহ জব্দের আদেশ
জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল