Thursday, January 8th, 2026, 4:24 pm

ভাঙ্গুড়ায় প্রচন্ড শীতেও মধু সংগ্রহ করছেন মৌ খামারীরা

ভাঙ্গুড়া(পাবনা)সংবাদদাতা:

পাবনা ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রচন্ড শীতের মধ্যেও মধু সংগ্রহ করছেন মৌ খামারীরা। শীতল আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবুও থেমে নেই মধু সংগ্রহ। একটু বিলম্বে হলেও রোদের দেখা মেলে। তখনই বাক্স থেকে বের হয় মৌমাছিগুলো। এখানে মাঠ জুড়ে যেমন হলুদের সমারোহ,তেমনি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায় মৌমাছি।

এককজন খামারি এসব মাঠে এক’শ থেকে দুই’শ বাক্স বসিয়ে সেখানে মৌমাছি পালন করছেন। সারাদিন মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিগুলো সন্ধ্যায় ফিরে আসে নিজের বাক্সে। জানাগেছে,এসব খামার থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫ থেকে ২০ মণ মধু পাওয়া যায়।

সরেজমিনে সাতবাড়িয়া মৌ খামার থেকে এনামুল হাসান টগর নামের এলজিইডি’র একজন কর্মকর্তাকে ২০ কেজি মধু ক্রয় করতে দেখা যায়। এনামুল হাসান বলেন,সরিষার ক্ষেতে স্থাপিত এসব মৌ খামার থেকে খাঁটি মধূ সংগ্রহের জন্য তিনি ঢাকা থেকে এসেছিলেন। তিনি প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা দরে কিনেছেন বলে জানান।

দিলপাশার ও খানমরিচ ইউনিয়নে অন্তত ১২০টি মৌ খামার রয়েছে। শীতের হাত থেকে মৌবাক্স ও মাছি রক্ষায় মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও চটের কাপড়। খানমরিচ ইউনিয়নের বড় পুকুরিয়া গ্রামের খামারি  রমজান আলী, গোলাম হোসেন ও সোহাগ বলেন, গত এক মাসে দুইবার মধু উৎপাদন করা হয়েছে। দেড়শ’ মৌ বাক্স থেকে প্রথমবার ৮ মণ ও দ্বিতীয়বার ১৫ মণ মধু পাওয়া গেছে। সাধারণত সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহ করার কথা থাকলেও শীতের কারণে সম্ভব হচ্ছেনা। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র কিছুটা কমবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন জাহান বলেন,সরিষার মধু সংগ্রহের জন্য ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শতাধিক মৌ খামার রয়েছে। জমিতে ফুল থাকা পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা অব্যাহত থাকবে। এ বছর ২০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা রয়েছে।  তবে প্রচন্ড ঠান্ডায় উৎপাদন ব্যহত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মৌ খামার জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলতে পারে। তাই ফুল ঝড়ে পড়ার আগে জমিতে যাতে কোনো কৃষক কীটনাশক প্রয়োগ না করেন সেই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস পাল বলেন,সরিষার মধু যেমন সুস্বাদু,তেমনি এর গুণগত মান। তাই এই মওসুমে মৌচাষিদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে এক কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক মৌ খামার না করার পরামর্শ দেন তিনি।।