রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদনে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভারত-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তে জ্বালানি ও কূটনীতিতে ভারত দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের যোগদানের আগেই এ সিদ্ধান্ত এলো। আগামী ১২ জানুয়ারি দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত ও ‘দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত’ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে সার্জিও গোরে জানিয়েছিলেন, ভারতের রুশ তেল আমদানি বন্ধ নিশ্চিত করাই হবে তার শীর্ষ অগ্রাধিকার।
প্যারিসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসলোভ সিকোরস্কি বলেন, “ভারতসহ কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে ভারতে তেল আমদানি কমে আসায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি—এতে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে অর্থের জোগান বন্ধ হচ্ছে।” এ সময় জয়শঙ্কর এই মন্তব্যের কোনো বিরোধিতা করেননি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে জানান, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বিলটি কংগ্রেসে ভোটে উঠতে পারে।
“এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরির সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধে অনুপ্রাণিত হয়—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে।”
রাশিয়া স্যাংশনস অ্যাক্ট নামে দ্বি-দলীয় এই বিলটি গত এপ্রিল সিনেটে উত্থাপিত হয়। এখন পর্যন্ত সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৮৪ জন এবং প্রতিনিধি পরিষদের ১৫১ জন বিলটির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন—ভোটে উঠলে সহজেই পাস হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যে ভারত ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে—এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আগে থেকেই রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত। নতুন বিলটি পাস হলে এই শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ভারত-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়াকে দিল্লির জন্য আরেকটি কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি রূপান্তর ও জলবায়ু সহযোগিতায় এই জোটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত
ইরানে বিক্ষোভে-সহিংসতায় আরও ২ নিহত, ২৫ প্রদেশে ছড়িয়েছে প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা