Thursday, January 8th, 2026, 6:49 pm

২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার, নতুন তালিকা অনুমোদন

 

জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ২৯৫টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব ওষুধের দাম সরাসরি সরকার নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত গাইডলাইন নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন তালিকায় আগের তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ বেশি যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধনীতি বাংলাদেশের ওষুধ খাতকে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় বাজারে প্রায় ৩৫০টি ওষুধ ছিল, যার মধ্যে ১১৭টির দাম সরকার নিয়ন্ত্রণ করত। তবে দীর্ঘদিন তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় বর্তমানে তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-এ দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে মানুষের মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়, যা মূলত ব্যক্তিগত খাত থেকে আসে। অনেক দেশে স্বাস্থ্যবিমা বা ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিট স্কিমের মাধ্যমে এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হলেও বাংলাদেশে সে ব্যবস্থা না থাকায় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে।

নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের সবগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করবে। বর্তমানে যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তাদের ধাপে ধাপে সরকারি নির্ধারিত দামে আসতে হবে। আর যারা এর নিচে দামে বিক্রি করছে, তারা চাইলে সেই দাম বজায় রাখতে পারবে অথবা বাজার থেকে সরে যেতে পারবে।

এছাড়া অত্যাবশ্যক নয়—এমন আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ ওষুধের দামের সীমানা নির্ধারণ করবে সরকার। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ থাকবে। তবে এই মূল্য কাঠামো কার্যকরে চার বছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ওষুধের দাম সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধের আবেদন সরকার গ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/