February 24, 2026
Thursday, January 8th, 2026, 7:54 pm

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে বিষয়টিকে তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়। অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় থাকা একাধিক দেশের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না। অনেক দেশের মধ্যেই বাংলাদেশ রয়েছে। যেসব দেশের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা আছে, মূলত সেগুলোই তালিকাভুক্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি—এটা তাদের কৌশলগত পর্যবেক্ষণের অংশ। সে কারণে কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থাকাটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই এটি দুঃখজনক এবং আমাদের জন্য কষ্টকর।”

তৌহিদ হোসেন বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত গত এক বছরের মধ্যে নেওয়া হতো, তাহলে বর্তমান সরকারের দায় থাকতে পারত। কিন্তু এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ফলে নীতিগতভাবে দায় যদি কারও ওপর পড়ে, তাহলে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপরই বর্তায়।

ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকারের করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা সদ্য কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত। আমরা প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই এগোব। চেষ্টা করব, যেন বাংলাদেশ এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পায়।”

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। প্রথমে গত বছরের আগস্টে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও সাতটি দেশের নাম যুক্ত হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য এই ভিসা বন্ডের শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপের তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো—আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বাংলাদেশ, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোট দিভোয়ার, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হবে, যা ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএনবাংলা/