সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কমিশন। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি।
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ওই দুই আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে—এভাবে বলা যাবে না। আমরা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।’
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ওই গেজেট অনুযায়ী— পাবনা-১ আসন হলো সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা এবং পাবনা-২ আসন সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে হবে।
এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত শুনানিতে রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসি আপিল বিভাগে আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১, পাবনা-২ ও ফরিদপুর-২ আসনের সীমানা পরিবর্তন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করে ইসি।
সংশোধিত গেজেটে—পাবনা-১ আসন: সাঁথিয়া উপজেলার পাশাপাশি বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন। পাবনা-২ আসন: সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ রাখা হয়েছিল।
তবে এই সংশোধিত গেজেটের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে ৫ জানুয়ারি দেওয়া রায়ে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। আপিল বিভাগ রায়ে জানান, লিভ টু আপিল দায়ের করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে ইসির সংশোধিত সীমানা নির্ধারণ কার্যকর থাকছে না।
আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতেই পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাগেরহাট ও গাজীপুরের সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার আগেই পাবনা-১ ও ২ আসনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে সীমানা পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। আপিল নিষ্পত্তির আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলেই নির্বাচন স্থগিতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান, ‘নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো পাইনি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশের
বিহারের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশি ৪ সাংবাদিক
হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর