Saturday, January 10th, 2026, 1:20 pm

যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ফাইল ফটো/ এপি

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেই। দ্বীপটির বাসিন্দারা কিংবা ডেনমার্ক বিষয়টি মেনে নিক বা না নিক—ওয়াশিংটনের এই অবস্থান বদলাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল না করলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করবে। এই দুই দেশকে তিনি নিজেদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন।

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি বিষয়টি ‘সহজ উপায়ে’ মীমাংসা করতে আগ্রহী। তবে প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’, অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবেন না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি মালিকানা কেন চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কোনো ভূখণ্ডকে সঠিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে হলে তার মালিক হওয়াই একমাত্র উপায়। লিজ নেওয়া জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনা করেননি ট্রাম্প। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরবর্তী সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—এমন আশাই করছেন তারা।

হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই খোলা থাকে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ দাবি থেকে একচুলও সরে আসছেন না।

এনএনবাংলা/