Sunday, January 11th, 2026, 4:31 pm

ইরানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ, হাসপাতালে আহতের ঢল

ছবি: এএফপি

 

ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতদের চাপে দেশটির হাসপাতালগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীরা।

দেশটির তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানিয়েছে, সহিংসতায় আহতদের ভিড় সামলাতে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে হাসপাতালগুলো। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে গুলি লেগেছে।”

তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের কর্মীরা জানান, শরীরে গুলি ও রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন।

এদিকে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ দমনের জবাব সামরিক কায়দায় দেওয়া হবে বলে শুক্রবার আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র সহিংস রূপ দিয়েছে।

ইরানের অভিযোগের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়তো অন্য কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।”

২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তার পর এবারের আন্দোলনকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা দেশের সব প্রদেশে এবং একশ’র বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়।

ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে। বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিবিসি পারসিয়ান নিশ্চিত করেছে, উত্তর ইরানের রাশত শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ আনা হয়। তবে হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় অনেকের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।

এনএনবাংলা/