Sunday, January 11th, 2026, 4:55 pm

আল্লাহর ওপর ভরসা ছিল, ষড়যন্ত্র টেকেনি : প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মান্না

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মান্না বলেন, তাঁর মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তিনি বলেন, “আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।”

তিনি বলেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়; বরং মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিক বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ঠিক করার বিধান রয়েছে। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মান্না বলেন, তিনি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন এবং এবারও করছেন। অথচ তাঁকে বাদ দেওয়ার জন্য যে কূটকৌশল নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়। না হলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, “রক্ত ও জীবন দিয়ে যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেটিকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছু করার থাকে না। ক্ষমতার জন্য এ ধরনের ঘটনা কখনোই গণতন্ত্রের পথ হতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক, সমগ্রের কাছে সবাই ছোট—এই মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না।”

ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ওই কর্মকর্তা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার করা হয়। তবে এই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম উল্লেখ না করলেও মান্না বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকাই স্বাভাবিক। তবে কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। তাঁর ভাষায়, “ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হলে ষড়যন্ত্র টিকে না—আজকের সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে বিজয় অর্জনের মানসিকতা গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ এখনো যথাযথভাবে সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না; অনেক জায়গায় নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে মান্না বলেন, এখনো দলটির মনোনীত প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তবে যেহেতু তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা ছিল, সে অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক নিয়ম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ