Sunday, January 11th, 2026, 5:05 pm

গণভোট নয়, শুধু সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ। তবে গণভোট পর্যবেক্ষণের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়ার ইয়াবস জানান, প্রায় দুই মাস ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন। তাদের পর্যবেক্ষণ শুধু সংসদ নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, গণভোট এর আওতায় আসবে না।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইইউ সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে নারী-পুরুষ, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সমাজের সব গোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বোঝায়। পাশাপাশি কত শতাংশ ভোটার ভোট দিচ্ছেন, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইয়ার ইয়াবস বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসই আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

ইয়ার ইয়াবস উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাচ্ছে ইইউ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আজ ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রয়োজনীয় ব্রিফিং শেষে আগামী শনিবার তারা দেশের সব বিভাগে ছড়িয়ে পড়বেন এবং ৬৪টি জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। ভোটের আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এই মিশনে যুক্ত হবেন। এ ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও থাকবেন।

ইয়ার ইয়াবস জানান, ভোটের কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলও এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশ থেকে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নেবেন।

মিশনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কতটা জাতীয় আইন ও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে, সেটি মূল্যায়ন করা তাদের মূল লক্ষ্য। আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রার্থীদের আচরণ তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র বিশ্লেষণ করা হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে আলোচনাও বিশেষভাবে নজরদারিতে থাকবে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফল সংকলন শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। ইইউ আশা করছে, নির্বাচনটি হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ।

ইয়ার ইয়াবস জানান, ভোটের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিশন বাংলাদেশে থাকবে এবং প্রায় দুই মাস পর তিনি আবার এসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য সুপারিশও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটার ও প্রার্থী—সবার জন্যই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এনএনবাংলা/পিএইচ