দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌঘাঁটি ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ইরানের জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহন কেন্দ্রগুলো আমরা বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ঘালিবাফের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের প্রতিও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে দেখে।
এদিকে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সংগঠককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান বলেন, “শনিবার রাতে দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত মূল গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।” তবে গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে তেল আবিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
গত কয়েক দিনে একাধিকবার ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এই সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া সূত্রগুলো ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। উল্লেখ্য, গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলায় অংশ নেয়।
এছাড়া শনিবার এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন এক কর্মকর্তা এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চললেও সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনও ইচ্ছা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ঘিরে দুই চিরশত্রু দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এখনও তীব্রভাবে বিরাজ করছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে: প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ
এস আলমের আরও ৪৩১ শতাংশ জমি স্থাপনাসহ জব্দের আদেশ
জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল