কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের শাহজাহান দ্বীপ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে।
এর আগের দিন রোববার একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত ওই শিশু হুফাইজা আফনান বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। টানা এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা কক্সবাজার–টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম সমকালকে জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক যুবক মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতায়াত না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।
মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইক্যং এলাকায় ক্ষুব্ধ মানুষ সড়ক অবরোধ করে। একই সঙ্গে আগের দিন গুলিবিদ্ধ শিশু হুফাইজা আফনানের উন্নত চিকিৎসা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, সকালে তারা গুলিবিদ্ধ শিশুর চিকিৎসা ও সীমান্তবাসীর নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন। সেই সময়ই নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে এক জেলে আহত হওয়ার খবর আসে, যা মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, আজ তার ইউনিয়নের এক জেলে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এর আগের দিন মিয়ানমারের গুলিতে শিশু হুফাইজা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানাতে ইরানের রাস্তায় দাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির তিন পর্যবেক্ষণ, অনড় ক্রীড়া উপদেষ্টা