Monday, January 12th, 2026, 4:03 pm

ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, দাবি আরাগচির

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আর সাধারণ আন্দোলন নেই, এটি এখন ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কারণেই এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানী তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “ইরানে যা ঘটছে, তা এখন আর বিক্ষোভ নয়—এটি সন্ত্রাসী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা নাশকতা চালাচ্ছে, সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে।”

আরাগচি বলেন, এই সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমাদের কাছে এমন অডিও ক্লিপ এসেছে, যেখানে বাইরে থেকে নাশকতার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে সরকার ও সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। “সরকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই সন্ত্রাসীরা কখনোই সফল হতে পারবে না,” বলেন তিনি।

বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপই বিদেশি সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—সংলাপ হোক বা যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত।”

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের পরিসর ও তীব্রতা দুটোই বেড়েছে।

এই আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল। এর ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই আন্দোলনে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিক্ষোভের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সরকার যদি কঠোর পন্থায় আন্দোলন দমন করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে এবং সমস্যা সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত।

এনএনবাংলা/পিএইচ