স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকির’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভিসা প্রক্রিয়াকে ‘এভিডেন্স লেভেল–৩’-এ উন্নীত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম নিউজ ডটকম ডট এইউ জানায়, এই চার দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন এখন থেকে সবচেয়ে কড়াকড়ি যাচাইয়ের আওতায় পড়বে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ভিসা এইচকিউ-এর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
‘এভিডেন্স লেভেল–৩’ অস্ট্রেলিয়ার সিম্প্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্কের (SSVF) সর্বোচ্চ ও কঠোর স্তর। সাধারণত যেসব দেশে ভিসা জালিয়াতির ঝুঁকি বেশি বলে বিবেচিত হয়, সেসব দেশের ক্ষেত্রে এই স্তর প্রয়োগ করা হয়।
ভিসা এইচকিউ জানিয়েছে, এই স্তরের আওতাভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের সময় তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থের উৎসের বিস্তারিত তথ্য এবং সত্যায়িত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টসহ অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি তথ্য যাচাই করা হবে এবং ইন্টারপোলের সঙ্গে বায়োমেট্রিক্স ক্রস-ম্যাচিংয়ের মাত্রাও বাড়ানো হবে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় আগত মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের পাসপোর্টধারী। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিউজ ডট এইউকে জানান, গত বৃহস্পতিবার এই চার দেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল–২’ থেকে উন্নীত করে ‘এভিডেন্স লেভেল–৩’-এ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভীর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে প্রকৃত ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও নিশ্চিত হবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানাতে ইরানের রাস্তায় দাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির তিন পর্যবেক্ষণ, অনড় ক্রীড়া উপদেষ্টা
জনসমর্থনে ব্যবধান ১.১ শতাংশ, বিএনপি ৩৪.৭ ও জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশ