Tuesday, January 13th, 2026, 4:15 pm

পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ

 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি উদীয়মান শক্তিশালী সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত চুক্তির অগ্রগতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এই সম্ভাব্য জোটের কাঠামোকে দৃঢ় করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তারই অংশ এই উদ্যোগ।

এই সম্ভাব্য জোটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে। চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী, কোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। এর সঙ্গে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি যুক্ত হলে একটি শক্তিশালী সামরিক ত্রিভুজ গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে—সামরিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন—এই তিন ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সৌদি-মডেলের প্রতিরক্ষা চুক্তির আদলে একটি খসড়া তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরকালে জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সুপার মুশাক (Super Mushshak) প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এই সহযোগিতা কেবল অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ সামরিক মহড়াতেও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ওপর। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়ে খসড়া চুক্তির কাজ এগোলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এই জোট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ এই চতুর্মুখী সামরিক জোটে যোগ দিলে তা মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সমন্বয়ের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

এনএনবাংলা/