Thursday, January 15th, 2026, 1:35 pm

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাল আইস এজেন্টরা

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানে এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আটক হওয়া ওই নারীর নাম আলিয়া রহমান। তিনি একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তার শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আইস এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। অভিযোগ করা হয়, এ সময় আলিয়া রহমান তার গাড়ি দিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত আইস এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে জোরপূর্বক বাইরে বের করে আনছেন। এ সময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে ছিলেন। আশপাশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরাও তখন চিৎকার করে এজেন্টদের থামাতে অনুরোধ করছিলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা সংক্ষেপে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই সংস্থার এজেন্টরা অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার ও দেশ থেকে বহিষ্কারের দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইস এজেন্টদের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন দক্ষ সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি এর আগে নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেন।

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তিনি একজন সনদপ্রাপ্ত সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও শৈশবে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছেন এবং পোশাকশ্রমিকদের—বিশেষ করে নারীদের—অধিকার আদায়ের আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছেন।

শৈশব থেকেই আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। পড়ালেখার উদ্দেশ্যে তিনি পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০০১ সালের টুইন টাওয়ার হামলায় তার দুই কাজিন নিহত হন।

দীর্ঘদিন ধরে আলিয়া রহমান ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচি এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর আলিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ