Saturday, January 17th, 2026, 3:17 pm

দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান

 

বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি বিভীষিকাময় সময়ের দিন ও রাতের অবসান হয়েছে। দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিগত আন্দোলন ও নিপীড়নে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যদের নিয়ে ‘বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন—যেসব মা সন্তান হারিয়েছেন, বোনেরা স্বামী হারিয়েছেন, আর সন্তানেরা পিতৃহারা হয়েছেন—তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা আমাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, আপনাদের বুকভরা কষ্টের সামনে আমাদের সব কথা অপ্রতুল।

একটি দুঃসহ সময় পার করে আসার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পথ কখনো কখনো কঠিন হয়েছে, কখনো তীব্র হয়েছে আবার কখনো কিছুটা স্তিমিতও হয়েছে। তবে বছরের পর বছর গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার হয়রানির শিকার হলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী রাজপথ ছেড়ে যাননি।

তিনি বলেন, একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছেন, আরেক ভাই তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার শপথ নিয়েছেন। এই আপোষহীন মনোভাবই প্রমাণ করে—অপপ্রচার চালিয়ে কোনো দলকে দমন করা যায় না, ইনশাআল্লাহ।

ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের আত্মত্যাগ ও কষ্ট আমরা যারা পিছনে রয়েছি, তারা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো যেন তা বৃথা না যায়।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন গড়ে উঠেছে। সেই রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর অবশ্যই বড় দায়িত্ব বর্তায়। রাষ্ট্র কখনোই শহীদ পরিবারগুলোকে ভুলে যেতে পারে না।

তিনি জানান, শহীদদের আত্মত্যাগ জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে বিএনপি ভবিষ্যতে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এ মুহূর্তে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। এরপরও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্রপ্রিয় ও স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের সামনে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। কিন্তু কেউ কেউ নানা কৌশলে বিতর্ক সৃষ্টি করে এই গণতান্ত্রিক পথকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা উসকানি ও বিভ্রান্তির মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা নস্যাৎ করতে চায়, তাদের যেন সফল হতে না দেওয়া হয়।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্যাতিত মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হলো জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক একটি সরকার গঠন করা। শহীদ পরিবারগুলোর ত্যাগ স্মরণ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এনএনবাংলা/পিএইচ