Saturday, January 17th, 2026, 5:04 pm

গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে কাঁদলেন তারেক রহমান

 

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর কান্না, আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। স্বজন হারানো মানুষের হৃদয়বিদারক বর্ণনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বেদনা আর অপেক্ষার গল্পে সভাস্থলজুড়ে নেমে আসে গভীর বিষণ্নতা।

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক বছর যায়, নতুন বছর আসে—কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেল, এখনো কাউকে ফিরে পাইনি।”

বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন সে আজও লালন করে, তা আদৌ পূরণ হবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই ঋদির। সে জানায়, আড়াই বছর বয়স থেকেই মায়ের কোলে চড়ে এসব কর্মসূচিতে আসছে। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, আজ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

মাত্র দুই মাস বয়সে বাবাকে হারায় সাফা। বাবাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবার সুযোগও হয়নি তার। চোখের জলে ভেজা কণ্ঠে সাফা বলে, “একযুগ ধরে বাবার অপেক্ষায় আছি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু আজও তাকে দেখতে পারিনি।”

তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিমের শৈশব কেটেছে বাবাহীন শূন্যতায়। সমবয়সীদের বাবারা যখন তাদের হাঁটা শেখায়, তখন মিম খুঁজে বেড়ায় নিজের বাবাকে।

মিম, সাফা ও ঋদির মতো গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জন—কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, কেউ বা স্বামী। আজ তাদের একমাত্র দাবি—এই অপরাধগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আর্তনাদ শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানো এই নেতা স্বজনহারাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করেছি। এখনো অনেক সন্তান অপেক্ষা করছে—তাদের বাবা হঠাৎ দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা আশায় বুক বাঁধছে—তার সন্তান একদিন ফিরে আসবে।”

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য দাবি জানান, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ গুমের মতো অপরাধ করার সাহস না পায়, সে জন্য গুম প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হোক।

এনএনবাংলা/পিএইচ