Sunday, January 18th, 2026, 2:19 pm

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব : তারেক রহমান

 

দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ডিপার্টমেন্ট গঠন করবে বিএনপি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের দেখভাল করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের কষ্ট লাঘবে দলটি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি যখন পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখনই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, আহত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর কল্যাণে এ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে হতাহত পরিবারের সদস্যদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা আজকের অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে। এ কষ্ট কোনো কিছু দিয়েই পুরোপুরি মোচন করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দুইভাবে আহতদের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে—একটি হলো সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অন্যটি হলো রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের একটি নৈতিক ও সাংবিধানিক দায় রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেই দায় গভীরভাবে অনুভব করে। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও আমাদের শোকসভা ও শোকগাথা থামবে না। তাই শোক নয়, গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিষয়ে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এনএনবাংলা/পিএইচ